বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট
বর্তমান বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিত্যনতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন হচ্ছে, যা একই সাথে সৃষ্টি করছে নানাবিধ অর্থনৈতিক জটিলতা এবং সমস্যা। বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর বিভিন্ন সমাধান পেশ করা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ অর্থনীতি ও বাণিজ্য একটি স্বতন্ত্র ও জটিল বিদ্যায় পরিণত হয়েছে।
তবে এই আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মূলত পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেওয়া সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। এই পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণ এবং সমাজতন্ত্রের সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফলস্বরূপ, মুসলিম সমাজ পশ্চিমা অর্থব্যবস্থার ত্রুটি থেকে মুক্তি পেতে অর্থনীতিকে ইসলামী ধারায় প্রতিষ্ঠিত করার এক গভীর অনুভূতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে।
ইসলামী অর্থনীতির অপরিহার্যতা
ইসলাম মানুষের ব্যবহারিক (ব্যবহারিক) জীবনের জন্য এক আত্মনিরপেক্ষ এবং দূরান্তভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক বিধান দিয়েছে। এই বিধান অনুসরণ করে চলার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ:
পরকালের জবাবদিহিতা: ইসলাম মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অর্থনৈতিক বিষয়ে কিয়ামতের ময়দানে দুটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে এক ধাপও সামনে যেতে দেওয়া হবে না। প্রশ্ন করা হবে— কিভাবে উপার্জন করেছ এবং কোথায় খরচ করেছ।
বৈধ লেনদেনের গুরুত্ব: ইসলাম ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্যান্য লেনদেন বৈধভাবে (শরীয়তসম্মত উপায়ে) সম্পাদনের ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে। এই লেনদেনগুলোর মূলনীতিসমূহ কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকাহশাস্ত্রের কিতাবসমূহে সুবিন্যস্তভাবে আলোচিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত প্রচেষ্টা: ব্যক্তিগতভাবে অনেক দ্বীনদার মুসলমান যেমন তাদের কারবার যথা সম্ভব ইসলামী শিক্ষার আলোকে পরিচালনা করতে আগ্রহী, তেমনি সমষ্টিগতভাবেও বিভিন্ন দেশে অর্থনীতিকে ইসলামী আহকাম অনুযায়ী পরিচালনা করার প্রচেষ্টা চলছে।
’ইসলাম আধুনিক অর্থব্যবস্থা’ গ্রন্থের ভূমিকা ও লক্ষ্য
পাকিস্তানের খ্যাতনামা ফকীহ্ ও গবেষক, বিচারপতি মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দা.বা.) রচিত “ইসলাম আওর জাদীদ মায়ীশত ওয়া তিজারত” (ইসলাম আধুনিক অর্থব্যবস্থা) বইটি এই প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন। এই গ্রন্থের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১. শরয়ী সিদ্ধান্তের সন্ধান
আধুনিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে উদ্ভূত নতুন নতুন পদ্ধতি ও প্রকৃতির ওপর আলোচনা করে সেগুলোর ফিকহী বিশ্লেষণের মাধ্যমে শরয়ী সিদ্ধান্ত খুঁজে বের করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। যুগের পরিবর্তনে সৃষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যের নিত্য নতুন পদ্ধতির বিকল্প ইসলামী পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা একজন আলেমের জন্য বর্তমানে সময়ের দাবি।
২. আলেম ও আধুনিক শিক্ষিতদের মধ্যে সেতুবন্ধন
পশ্চিমা আধিপত্যের কারণে ওলামা (ধর্মীয় পণ্ডিত) ও আধুনিক শিক্ষিতদের মাঝে চিন্তাধারা ও ভাষা-পরিভাষার এক প্রবল দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো নিয়ে পারস্পারিক আলোচনা ও সমালোচনার পথ উন্মুক্ত করার জন্য এবং উভয় পক্ষকে কাছাকাছি আনতেই এই গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূলত এই বইটি দারুল উলুম করাচীতে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কোর্সগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
৩. গবেষণার দ্বার উন্মোচন
আল্লামা তাকী উসমানী (দা.বা.) বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে কুরআন, সুন্নাহ বা ফিকহে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত পাননি, সেখানে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা পেশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই আলোচনাটিই শেষ ফতওয়া বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরামের জন্য এই বিষয়ে আরও চিন্তা ও গবেষণার পথ উন্মোচন করাই এর মূল লক্ষ্য।
এই গবেষণা-ধর্মী পুস্তকটি বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের সামনে ইসলামী অর্থনীতির এক ভারসাম্যপূর্ণ ও বিস্তারিত রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। এটি পাঠকদের অর্থনীতির জ্ঞান বৃদ্ধিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ প্রদান করুন এবং আমল করে পৃথিবীতে তা বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সম্পন্ন বইটা পড়তে বা ফ্রী তে ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।